৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ২৩শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

কক্সবাজারে চাঞ্চল্যকর মোরশেদ হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ও  হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত  ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। গেল রাত ভোরে (১৫এপ্রিল) টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায়  অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। সেচ প্রকল্প নিয়ে বিরোধের জেরে মোরশেদকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে র‍্যাব-৭।

র‍্যাব বলছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা  সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিলেন।মোরশেদকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা নিশ্চিত করা হয় । আসামিদের স্বীকারোক্তিমতে র‍্যাব বলছে, হত্যার আগে পিটুনি সহ্য করতে না পেরে আকুতি জানিয়ে মোরশেদ বলছিলেন, ‘এখন বেশি ক্লান্ত লাগছে, একটু পর ইফতার করব। ইফতার শেষ করলেই তোমরা আমায় মেরো।’ তবে আসামিরা তাঁকে সে সুযোগ দেয়নি।

গ্রেপ্তার হওয়া  ৫ আসামি হলেন মাহমুদুল হক, মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, আবদুল আজিজ ও নুরুল হক। আসামিরা ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে র‍্যাব জানায় । শুক্রবার দুপুরে

চান্দগাঁও ক্যাম্পে র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ সাংবাদিকদের বলেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মাহফুজুল হকের পরিবার গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি তুলে টাকার বিনিময়ে কৃষকদের মধ্যে পানি ব্যবসা করছে । তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় কৃষকদের বিভিন্ন অভিযোগ দীর্ঘদিন থেকে। মোরশেদ তিন মাস আগে সৌদি আরব থেকে এলাকায় আসেন । তিনি কৃষকদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেয়ার প্রতিবাদ করতেন। এলাকায় প্রতিবাদী যুবক হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল। এ কারণে মাহফুজুল এর পরিবারের সঙ্গে প্রতিবাদী মোরশেদ এর দ্বন্দ্ব ও মতবিরোধ সৃষ্টি হয়।

গণমাধ্যমকে র‍্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, ঘটনার দিন দুপুরে একটি সিমেন্টের দোকানে বসে মাহফুজুল মোরশেদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দিন বিকেলে মোরশেদ বাসা থেকে বের হয়ে বাজারে গেলে পরিকল্পনামতো তারা তাঁকে কিরিচ ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করেন।

এক প্রশ্নে জবাবে র‍্যাব কর্মকর্তা বলেন, ধৃত আসামিরা ঘটনায় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের কথা স্বীকার করেননি । তদন্ত করা হচ্ছে। তবে তাঁরা দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছেন। এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। সেচ প্রকল্প নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।  আসামিদের কক্সবাজারের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।

কক্সবাজারের পিএমখালীর বাসিন্দা মোরশেদ ৭ এপ্রিল ইফতারি কেনার জন্য স্থানীয় চেরাংঘর স্টেশনে বের হলে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। রাত আটটার দিকে হাসপাতালে মোরশেদ এর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায়  মামলা হয় কক্সবাজার সদর থানায়।