৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ২৩শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

ঈদের আগেই ৩২ হাজার ৯০৪ গৃহহীন পরিবার পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর ঘর উপহার। ২৬ এপ্রিল এগুলো গৃহহীন ও ভূমিহীনদের মাঝে হস্তান্তর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে জমির দলিলসহ ঘরের চাবি হস্তান্তর করবেন তিনি। এর আগে আগামীকাল রবিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্রিফ করবেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানা গেছে, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় তৃতীয় ধাপে ভূমিহীন-গৃহহীনের জন্য জমির মালিকানাসহ এই ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এ ধাপে ৬৫ হাজারের বেশি পরিবার পাবে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর।

প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের তুলনায় তৃতীয় ধাপে কাঠামোতে আসছে বেশ পরিবর্তন। বাড়ানো হয়েছে ব্যয়। যে কারণে ঘরগুলো মজবুত ও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীনদের এরই মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে এক লাখ ১৭ হাজার ৩২৯টি ঘর দেয়া হয়েছে। দুই শতাংশ জমির মালিকানাসহ সেমিপাকা ঘর করে দেয়া হয়েছে তাদের। এর সঙ্গে রান্নাঘর ও টয়লেট ছিল। আঙিনায় হাঁস-মুরগি পালন ও শাক-সবজি চাষেরও জায়গা ছিল।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার হিসেবে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় নয় লাখ ভূমি ও গৃহহীন অসহায় পরিবার বসবাসের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পাবেন পাকা ঘর।

আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প, গুচ্ছগ্রাম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এ তিন সংস্থার সমন্বয়ে, জেলা এবং উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সংসদ সদস্য, নির্বাচিত অন্যান্য জনপ্রতিনিধি এবং সুধিজনের সমন্বয়ে গঠিত ট্রাস্কফোর্সের মাধ্যমে আশ্রয়ণ প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ‘বাংলাদেশের একজন মানুষও গৃহহীন থাকবে না’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ঘোষণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দেশের সব ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের তালিকা করা হয়েছে। ঘর এবং জমি নেই এমন পরিবারের সংখ্যা দুই লাখ ৯৩ হাজার ৩৬১ জন। অপরদিকে জমি আছে, ঘর নেই এমন পরিবারের সংখ্যা পাঁচ লাখ ৯২ হাজার ২৬১টি। সর্বমোট আট লাখ ৮৫ হাজার ৬২২টি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে বাসস্থান নির্মাণ করে দেয়া হবে সরকারের পক্ষ থেকে।

সরকারের পাশাপাশি গৃহহীনদের ঘর দেয়ার উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, রাজনীতিবিদ, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা এবং বিত্তবান ব্যক্তিবর্গ। সারাদেশের বিভিন্নস্থানে জনপ্রতিনিধিরা দুই হাজার ৮৯৬টি, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি উদ্যোগে ৯৯টি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি উদ্যোগে ৬০৫টি, বিসিএস অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাসোসিয়েশন ১১টি, বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ১০০টি, সরকারের ৮০ জন সচিব ১৬০টি, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা দুই হাজার ৮৬৮টি করে মোট সাড়ে ছয় হাজার গৃহ নির্মাণ করে দিচ্ছেন।