৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ২৩শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

বিশেষ প্রতিনিধি*

আজ পহেলা বৈশাখ । সেই ঐতিহ্যবাহী উৎসবের দিন। বাঙালীর সাংস্কৃতিক জাগরণের মহাউপলক্ষও মহামিলনের দিন।  আবহমানকাল ধরে চলা আচার, অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিবারের মতোই বরণ করে নেয়া হবে বাংলা নববর্ষকে। কোভিড ১৯ সংক্রমণের কারণে গত দু’বছর বড় কোনো উদযাপন সম্ভব হয়নি। ১৪২৯ বঙ্গাব্দের প্রথম দিনে আজ সেই বন্ধ্যত্ব ঘুচিয়ে নব সূচনার আশা করা হচ্ছে।

এবার আগের মতোই রমনা বটমূলে ফিরছে বাঙালিত্বের সাধনায় রত ছায়ানট। ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের প্রভাতী অনুষ্ঠানে ভোর সোয়া ৬টায় যোগ দেবে রাজধানীবাসী। এর পর সকাল ৯টায় আকর্ষণীয় মঙ্গল শোভাযাত্রায় বিপুল জনসমাবেশ ঘটবে। পাশাপাশি গোটা দেশজুড়েই বিপুল উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সবচেয়ে বড় বর্ণাঢ্য ও অসাম্প্রদায়িক উৎসবে মাতবে সব ধর্মবর্ণ ও সম্প্রদায়ের মানুষ। বহুকাল পর রোজার মধ্যে হবে বর্ষবরণের আনুষ্ঠানিকতা। এ আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে ধর্ম ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন আরও জোরালো হবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

তবে পহেলা বৈশাখ শুধু উৎসব নয়, তাৎপর্যপূর্ণ এক মুভমেন্টের নাম। এবার এমন এক সময়ে নতুন বছরকে বরণ করে নেয়া হবে যখন সেই পুরনো চেহারায় সামনে এসেছে মৌলবাদ। ধর্মীয় উগ্রবাদীরা স্বাধীনতার ৫০ বছরের যত অর্জন সব গিলে খেতে চাইছে। নানা ছুঁতোয় ফণা তোলার চেষ্টা করছে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। যখন শ্রেণীকক্ষে আক্রান্ত হচ্ছে বিজ্ঞান, যখন ধর্মের নামে উন্মাদনা ছড়িয়ে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা চালানো হচ্ছে, যখন পুলিশ এবং প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা প্রতিক্রিয়াশীলরাও বসে নেই তখন প্রতিবাদ-প্রতিরোধের বৈশাখ এসেছে। আজ বাঙালীর চেতনাবিরোধী অপশক্তি রুখতে নতুন বছরে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার শপথ নেবে বাংলাদেশ। বাঙালীর উদার-অসাম্প্রদায়িক চেতনার উজ্জ্বল আলোয়, অগ্নিবাণে পুড়বে অন্ধকার। নজরুলের ভাষায়: তোরা সব জয়ধ্বনি কর/তোরা সব জয়ধ্বনি কর/ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখির ঝড়/তোরা সব জয়ধ্বনি কর…। উদার, অসাম্প্রদায়িক উৎসবের পক্ষে জয়ধ্বনি করবে আজ বাংলাদেশ। শুদ্ধ, সুন্দর চাওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন বছরে নবসূচনা করবে বাঙালি। বিগত দিনের শোক-তাপ-বেদনা-অপ্রাপ্তি-আক্ষেপ ভুলে অপার সম্ভাবনার দিকে চোখ মেলে তাকাবে।

বছরের প্রথম দিনে আজ নতুন নতুন স্বপ্ন বুনবে বাংলার কৃষক। হালখাতা খুলবেন ব্যবসায়ীরা। সরকারি ছুটির দিনে রাজধানীসহ সারাদেশে একযোগে চলবে লোকজ ঐতিহ্যের নানা উৎসব অনুষ্ঠান। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলা নববর্ষের সঙ্গে সবচেয়ে নিবিড় সম্পর্ক কৃষির। এ সম্পর্কের সূত্রেই বাংলা সাল প্রবর্তন করেন সম্রাট আকবর। তার আমলেই প্রবর্তন হয় বাংলা সাল। এখন তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত। বঙ্গাব্দের মাস হিসেবে বৈশাখের প্রথম স্থান অধিকার করার ইতিহাসটি বেশিদিনের না হলেও, আদি সাহিত্যে বৈশাখের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়। দক্ষের ২৭ কন্যার মধ্যে অনন্য সুন্দরী অথচ খরতাপময় মেজাজসম্পন্ন একজনের নাম বিশাখা। এই বিশাখা নক্ষত্রের নামানুসারেই বাংলা সনের প্রথম মাস বৈশাখের নামকরণ। বৈদিক যুগে সৌরমতে বৎসর গণনার পদ্ধতি প্রচলিত ছিল। সেখানেও সন্ধান মেলে বৈশাখের।

পেছনের যত ক্ষত ভুলে এ মাসেই ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখে বাঙালি। সেই শুভ সূচনা হয় পহেলা বৈশাখে। কবিগুরুর ভাষায়- মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা…। পুরনো দিনের শোক-তাপ- বেদনা-অপ্রাপ্তি-আক্ষেপ ভুলে অপার সম্ভাবনার দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করবে। দুই হাতে অন্ধকার ঠেলে, সকল ভয়কে জয় করার মানসে নতুন করে জেগে উঠবে বাঙালি। ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ আজ একাত্ম হয়ে গাইবে- এসো, এসো, এসো হে বৈশাখ…। আনন্দে উৎসবে মাতবে গোটা দেশ। কবিগুরুর ভাষায়- নব আনন্দে জাগো আজি নব রবি কিরণে/শুভ্র সুন্দর প্রীতি-উজ্জ্বল নির্মল জীবনে…। একই আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে নজরুল লিখেছেন-তোরা সব জয়ধ্বনি কর/তোরা সব জয়ধ্বনি কর/ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কালবোশেখির ঝড়/ তোরা সব জয়ধ্বনি কর…।

আবহমানকাল ধরেই চলছে বৈশাখ বরণের আনুষ্ঠানিকতা। প্রকৃত রূপটি দৃশ্যমান হয় গ্রামে। একসময় গ্রামবাংলায় চৈত্রসংক্রান্তি ছিল প্রধান উৎসব। বছরের শেষদিনে তেতো খাবার খেয়ে শরীর শুদ্ধ করতেন কৃষাণ-কৃষাণীরা। নির্মল চিত্তে প্রস্তুত হতেন নতুন বছরে প্রবেশ করার জন্য। এখনও বৈশাখ বরণের অংশ হিসেবে বাড়িঘর ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করেন গৃহিণীরা। অদ্ভুত মুন্সিয়ানায় আল্পনা আঁকেন মাটির মেঝেতে। খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন সবাই। স্নান সারেন। নতুন পোশাক পরেন। আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীর বাড়িতে বেড়াতে যান। ঘরে ঘরে সাধ্যমতো বিশেষ খাবার রান্না করা হয়। থাকে পিঠা-পুলির আয়োজন। আজ হাটে-মাঠে-ঘাটে বসবে ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা। নানা রকম কুটির শিল্প, খেলনা, মিষ্টিসহ বাহারি পণ্যে স্টল সাজানো হবে। বিভিন্ন এলাকায় থাকবে নৌকাবাইচ, লাঠিখেলা কিংবা কুস্তির মতো ঐতিহ্যবাহী আয়োজন।

নাগরিক জীবনেও বিপুল আনন্দ যোগ করে পহেলা বৈশাখ। বর্ষবরণের দিন সব শহরেই আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য উৎসব অনুষ্ঠানের। ধর্মবর্ণ ভেদ ভুলে অসাম্প্রদায়িক উৎসবে মাতে বাংলা। ষাটের দশকে বাঙালি চেতনাবিরোধী অবস্থানের প্রতিবাদে রাজধানী শহর ঢাকার রমনা বটমূলে শুরু হয় বৈশাখ উদ্যাপন। এর মাধ্যমে বাঙালি আপন পরিচয়ে সামনে আসার সুযোগ পায়। পরবর্তী সময়ে বাঙালীর রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উত্থান ঘটে পহেলা বৈশাখের। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিবসটি বর্তমানে বাঙালীর জাতিসত্তায়, চেতনায় ও অনুভবের জগতে গভীরভাবে বিরাজ করছে। এ প্রসঙ্গে ড. মুহাম্মদ এনামুল হকের বলাটি চমৎকার। তিনি বলেছেন, আমাদের অধুনাতম নববর্ষ এ দেশের গ্রীষ্মকালীন উৎসব ও কৃষি উৎসব উদযাপনের একটি বিবর্তিত নব সংস্করণ। এর ঐতিহ্য প্রাচীন কিন্তু রূপ নতুন, নতুন সংস্কার, নতুন সংস্কৃতি, নতুন চিন্তাধারা অবারিত স্রোতে যুক্ত হয়ে সৃষ্টি করেছে এমন এক নতুন আবহ যাকে একটা দার্শনিক পরিমণ্ডল বলে উল্লেখ করতে হয়। এ পরিমণ্ডলে পুরাতন বিলীন জীর্ণস্তূপ নিশ্চিহ্ন, মিথ্যা বিলুপ্ত ও অসত্য অদৃশ্য। আর নতুন আবির্ভূত নবজীবন জাগরিত সুন্দর সম্মিত ও মঙ্গল সম্ভাবিত কালবৈশাখীই এর প্রতীক। সে নববর্ষের অমোঘ সহচর। নবসৃষ্টির অগ্রদূত সুন্দরের অগ্রপথিক ও বিজয়কেতন।

আজ সরকারি ছুটির দিন। লাল ও সাদা রঙের পোশাক পরে সব বয়সী মানুষ ঘর থেকে বের হবেন। শাড়ি ও পাঞ্জাবি পরে দিনভর ঘুরে বেড়াবে অলিগলি রাজপথ।

ছায়ানটের সঙ্গে দিন শুরু ॥ বাঙালীর বর্ষবরণ মানেই ছায়ানট। অন্তত শুরুটা ছায়ানটের সঙ্গে না করলেই নয়। এবারও পহেলা বৈশাখ ভোরবেলায় মানুষের স্রোতে নামবে রমনা বটমূলে। এ প্রসঙ্গে ছায়ানটের সভাপতি সন্জীদা খাতুন বলেন, পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠান নিছক গান গাওয়া নয়, বাঙালিত্বের সাধনা। আজ এ উদ্দেশ্যেই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। এবারের পহেলা বৈশাখের প্রেক্ষিত তুলে ধরে তিনি বলেন, পাকিস্তান আমাদের দেশটাকে স্বার্থকভাবে শেষ করতে পেরেছিল। তাই এখনও এত লড়তে হচ্ছে আমাদের। মুক্তিযুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। স্বাধীনতার আন্দোলন স্থির কাজ নয়। নিয়ত সাধনার বিষয়। এই সাধনা করে যেতে হবে। তা না হলে আমরা হেরে যাব। এ অবস্থায় সংস্কৃতিকে হাতিয়ার করে আবারও সকলকে যুদ্ধে নামার আহ্বান জানান তিনি।

বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা ॥ বর্ষবরণ উৎসবের আরেকটি প্রধানতম আয়োজন মঙ্গল শোভাযাত্রা। বহু বছর ধরে বর্ণাঢ্য এই উৎসবের আয়োজন করে আসছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। আজ পহেলা বৈশাখ সকাল ৯টায় বের হবে মঙ্গল শোভাযাত্রা। এবার টিএসসির রাজু ভাস্কর্য চত্বর থেকে শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হবে। নীলক্ষেত মোড় হয়ে পূর্বের জায়গায় ফিরে আসবেন সবাই। উদ্বোধন করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান। সব ধর্মবর্ণের মানুষ এতে অংশ গ্রহণ করেন। একই ধরনের আয়োজন করছে দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। এর ফলে ঢাকায় নয় শুধু, সারা দেশেই মঙ্গলের বার্তা ছড়িয়ে পড়বে। ঢাকার মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্য তৈরি করা হয়েছে ৪টি স্ট্রাকচারাল ফর্ম। বাংলার ঐতিহ্যবাহী মাটির পুতুল, মাছ, ঘোড়া থাকবে শোভাযাত্রায়।

ঋষিজ’র অনুষ্ঠান শিশু একাডেমির সামনে ॥ ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী শিশুপার্কের পাশে নারকেলবীথি চত্বরে বর্ষবরণ উৎসবের আয়োজন করবে। আয়োজনের শুরুতেই দলীয় পরিবেশনায় অংশ নেবে ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর শিল্পীরা। এরপর থাকবে অন্যান্য দলের পরিবেশনা। গোষ্ঠীর মূল শিল্পী ফকির আলমগীরের মৃত্যুর পর এটি প্রথম অনুষ্ঠান।

রাষ্ট্রপতির বাণী ॥ নববর্ষ উপলক্ষে দেয়া বাণীতে দেশবাসীকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। অতীতের সব গ্লানি ও বিভেদ ভুলে বাংলা নববর্ষ জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে আমাদের ঐক্যকে আরো সুসংহত করবে বলেও প্রত্যাশা ব্যাক্ত করেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, কৃষি, ব্যবসা, পার্বণসহ পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে বাংলা সনের ব্যবহার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। বাঙালীর জীবনে বাংলা নববর্ষের আবেদন তাই চিরন্তন ও সর্বজনীন। সকল অশুভ ও অসুন্দরের ওপর সত্য ও সুন্দরের জয় কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।

প্রধানমন্ত্রীর বাণী ॥ বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পহেলা বৈশাখে বাঙালী সংস্কৃতির যে চর্চা হয় তা আমাদের জাতিসত্তাকে আরও বিকশিত করে। সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার শক্তি যোগায়। শেখ হাসিনা বলেন, বর্ষবরণের উৎসবে এ চেতনাকে নস্যাত করার জন্য স্বাধীনতার আগে ও পরে বহু ষড়যন্ত্র হয়েছে। আঘাত করা হয়েছে বার বার। বোমা মেরে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। ধর্মান্ধ, সাম্প্রদায়িক শক্তির কোনো অপচেষ্টাই সফল হয়নি। বাঙালি জাতি নববর্ষকে ধারণ করেছে তার জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হিসেবে। নববর্ষে রাজনীতির নামে আগুনে পুড়িয়ে নিরীহ মানুষ হত্যা ও দেশের সম্পদ ধ্বংসকারী অপশক্তির বিরুদ্ধে বাঙালীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে বন্দরনগরী চট্টগ্রামে দীর্ঘ দুই বছর পর আবারও বাংলা বর্ষবরণের প্রস্তুতি নিয়েছে । নগরের ডিসি হিল, সিআরবির শিরীষতলা, শিল্পকলা একাডেমি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন বর্ষ বরণের আয়োজন রাখা হয়েছে।

এছাড়া নগরের বিভিন্ন স্থানে সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে চলছে বর্ষবরণের আয়োজন। এরই মধ্যে সবধরনের প্রস্তুতিও সেরে নিয়েছেন আয়োজকরা। তবে পবিত্র রমজানের কথা মাথা রেখে এবারের বর্ষবরণ উৎসবের সকল আয়োজন করা হয়েছে সংক্ষিপ্ত।

আজ বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) সকালে মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্যদিয়ে নতুন বছর ১৪২৯ বাংলাকে বরণ করা হবে। থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা।

নগরের ডিসি হিলে সম্মিলিত পহেলা বৈশাখ উদযাপন পরিষদ উদ্যোগের থাকবে নববর্ষকে বরণের অনুষ্ঠান। এছাড়া, সিআরবি’র শিরীষ তলায় চট্টগ্রাম নববর্ষ উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে দুইব্যাপি এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে নববর্ষের দিন থাকছে নানা আয়োজন।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে চলছে নানারকম প্রতিকৃতি ও মুখোশ তৈরির শেষ মুহুর্তের কাজ। বর্ষবরণকে ঘিরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নেয়া হয়েছে প্রস্তুতি। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি আয়োজন করা হয়েছে মঙ্গল শোভাযাত্রা ও গ্রামবাংলার বিভিন্ন খেলাধুলার।

বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে জনসাধারণের নিরাপত্তার কথা মাথা রেখে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) এর পক্ষ থেকে দেয়া হয়েছে ১১ দফা নির্দেশনা।