১৭ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ১লা জুলাই, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

২৩ বছর পর নতুন চ্যাম্পিয়ন পেতে যাচ্ছে ক্রিকেটবিশ্ব। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার পর ষষ্ঠ দল হিসেবে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরবে ছন্দময় ইংল্যান্ড অথবা উজ্জীবিত নিউজিল্যান্ড। ক্রিকেটের জনকদের সামনে সুযোগটা এসেছে এটা নিয়ে চতুর্থবার। আর দ্বিতীয়বার চূড়ান্ত লড়াইয়ের মওকা পেয়েছে নিউজিল্যান্ড।

বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী এ লড়াইতে রবিবার (১৪ জুলাই) মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। হোম অফ ক্রিকেট- লন্ডনের লর্ডসে ফাইনালটি শুরু হবে বেলা সাড়ে তিনটায়। এ লড়াইতে নিউজিল্যান্ডের চোখ গেলোবার ফাইনালে হারার হতাশা ভুলে শিরোপা উৎসব করা। আর বেদনাময় দীর্ঘ প্রতীক্ষা অবসানের প্রত্যাশা ক্রিকেটের জনক ইংল্যান্ডের।

১৯৭৯, ১৯৮৭ ও ১৯৯২ সালে তিনবারই ফাইনাল থেকে শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছে ইংলিশদের। প্রথমবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়া ও তৃতীয়বার ইংলিশদের কাঁদিয়েছে পাকিস্তান। এরপর হতাশা নিমজ্জিত পরবর্তী ২৭ বছর আর শেষ লড়াইতে উঠতেই পারেনি থ্রি-লায়ন্সরা।

তবে এবার যেন পুনরুত্থিত হয়েছে ইংলিশ ক্রিকেট। ইয়ন মরগানের সেনাপতিত্বে একঝাঁক ক্রিকেট সৈন্য রয়েছে এই রেনেসাঁর পেছনে। ব্যাট হাতে এ বাহিনীর পরীক্ষিত সম্মুখ সৈন্য জনি বেয়ারস্টো ও জেসন রয়। প্রতিটি ম্যাচেই দারুণ শুরু এনে পরবর্তী ব্যাটিং সৈন্যদের কাজটা সহজ করে দেন দুজন।

তাদের পরেই ভিত্তি হয়ে রয়েছেন এবারের ক্রিকেট যুদ্ধে ৫৪৯ রান সংগ্রহ করা জো রুট। ফাইনালে একটি ম্যাজিক ফিগারের দেখা পেলে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারের দাবিও করতে পারবেন রুট। বেন স্টোকস ও জস বাটলার শত্রুদের আতঙ্কের কারণ বনে যেতে পারেন যে কোনো সময়।

বল হাতে আক্রমণ শানাতে এ আসরে ইংলিশদের রয়েছে একাধিক অস্ত্র। ক্রিস ওকসের শৃঙ্খলিত বোলিং রান আটকাতে দ্ব্যর্থহীন। তীক্ষ্ম বোলিংয়ে ১৯ উইকেট নিয়ে আসরের সর্বোচ্চ শিকারির তালিকায় তৃতীয় জোফরা আর্চার। ১৭ উইকেট নিয়ে নীরব ঘাতকের ভূমিকায় মার্ক উড। প্রয়োজনের সময় শত্রু বধ করার মুন্সীয়না দেখিয়েছেন লিয়াম প্লাঙ্কেট। আর আদিল রশীদের স্পিন যেন রহস্যময় মিসাইল।

চাপমুক্ত থাকতে অনুশীলনে ফুরফুরে মেজাজে কিউইরা ২০১৫ বিশ্বকাপের আগে ছয়বার সেমিফাইনালে উঠলেও ফাইনালে পা রাখতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। একাদশ আসরে সবাইকে অবাক করে উঠে যায় শিরোপা নির্ধারণী লড়াইতে। কিন্তু মেলবোর্নে প্রতিবেশি অজিদের কাছে হেরে চূড়ান্ত মঞ্চে প্রথমবারের মত স্বপ্ন ভঙ্গ হয় কিউইদের।

টানা দ্বিতীয়বারের মতো আখেরি লড়াইয়ের মঞ্চে নিউজিল্যান্ড। সেমিফাইনালে টেবিল টপার ভারতকে হারিয়ে বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে ব্ল্যাক-ক্যাপসরা। হারের বৃত্ত ভেঙে উজ্জীবিত করেও নিয়েছেন নিজেদের।

কিন্তু বরাবরই ব্যর্থতায় বন্দী নিউজিল্যান্ডের অগ্রবর্তী ব্যাটিং সৈন্যরা। শুরুর ব্যর্থতা ঢাকতে সেনাপতি হয়েও লড়াইতে সম্মুখ সমরে হাজির হন কেন উইলিয়ামসন। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে দলকে শক্ত-হাতে সামলানোর পথে ৫৪৮ রান করেছেন কিউই দলপতি।

ব্যাট হাতে উইলিয়ামসনের যোগ্য সহযোদ্ধা হয়ে আছেন রস টেইলর। দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৩৫ রান তাঁর। বাকিরা ব্যাটিং যুদ্ধে কখনো জয়ী তো কখনো পরাস্ত।

নিজের শেষ বিশ্বকাপে ব্যর্থতা ঘুচিয়ে ফাইনালে দলকে ভালো শুরু এনে দিতে হবে মার্টিন গাপটিলকে কিন্তু ফাইনালের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে জিততে শুরুটা ভাল হওয়া জরুরি। তাই অ্যাডাম গিলক্রিস্ট থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারের মার্টিন গাপটিল। ২০০৭ আসরে পুরো টুর্নামেন্টে নিজের ছায়া হয়ে থাকলেও গিলক্রিস্ট অজিদের শিরোপা এনে দেন ফাইনালে সেঞ্চুরি করে। কিউইরাও গাপটিলের কাছ থেকে এমনটাই প্রত্যাশা করছে।

তবে নিউজিল্যান্ডের ফাইনাল পর্যন্ত আসার মূল কারিগর বোলাররা। ১৮ উইকেট শিকার করে তালিকার চতুর্থ সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক লুকি ফার্গুসন। আর ১৭ উইকেট নিয়ে তার ঠিক পেছনেই আছেন ট্রেন্ট বোল্ট। সেমিফাইনালে ভারত বধের প্রধান যোদ্ধা ম্যাট হেনরিও বল হাতে আরও একবার শত্রু নিশ্চিহ্নের অপেক্ষায়। ইংলিশ ব্যাটিং দুর্গ ভাঙতে জ্বলে উঠতেই হবে এই পেসার ত্রয়ীকে।

১৯৭৫ থেকে ২০১৯; দীর্ঘ পথচলার কতশত উত্থান-পতন পেরিয়ে শেষ ধাপে এসে দাঁড়িয়েছে নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ড। হাত-ছোঁয়া দূরত্বে থাকা চূড়ান্ত সফলতার মুকুটটি পরতে দুদলকেই জপতে হবে চাপমুক্তির মন্ত্র। কারণ অতীত বলছে- চাপকে জয় করতে পারলেই করা যায় বিশ্ব জয়।

অগ/পি